
প্রতি বছর লক্ষাধিক শিক্ষার্থী একটাই স্বপ্ন নিয়ে HSC পাস করে — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আসন। মাত্র কয়েক হাজার সিটের জন্য লড়াই করে তিন থেকে পাঁচ লাখ পরীক্ষার্থী। এই বিশাল প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি নিতে হয় পরিকল্পনামতো — শুধু পরিশ্রমে নয়।
অনেকেরই ধারণা ভালো GPA থাকলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবিতে) চান্স পাওয়া নিশ্চিত। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। ঢাবিতে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো:
সঠিক সিলেবাস বোঝা: কোন অধ্যায়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা নিখুঁতভাবে জানা।
সঠিক সময়ে সঠিক পড়া: শেষ মুহূর্তের জন্য পড়া জমিয়ে না রেখে সময়মতো পড়া শেষ করা।
MCQ কৌশল রপ্ত করা: কম সময়ে সঠিক উত্তর নিখুঁতভাবে বের করার টেকনিক আয়ত্তে আনা।
এই গাইডে পাবে ইউনিট পরিচিতি, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি কৌশল, দৈনিক রুটিন, MCQ টেকনিক, সাধারণ ভুল এবং বিশেষজ্ঞ টিপস — সব কিছু একটিমাত্র আর্টিকেলে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU) বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও মর্যাদাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অনেকের কাছেই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। বর্তমানে তিনটি প্রধান ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা পরিচালিত হয়।
ইউনিট | কাদের জন্য | বিষয় সমূহ | মোট নম্বর |
ক ইউনিট (বিজ্ঞান) | বিজ্ঞান বিভাগ | পদার্থ, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান | ১০০ |
খ ইউনিট (মানবিক) | মানবিক বিভাগ | বাংলা, ইংরেজি, সামাজিক বিজ্ঞান | ১০০ |
গ ইউনিট (বাণিজ্য) | বাণিজ্য বিভাগ | অ্যাকাউন্টিং, ব্যবসায় সংগঠন, ইংরেজি | ১০০ |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবিতে) ভর্তি পরীক্ষার মূল কাঠামো, মানবণ্টন এবং ইউনিটভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
বর্তমানে ঢাবিতে মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি করা হয়।
ভর্তি পরীক্ষা (১০০ নম্বর): এটি মূল পরীক্ষা। সময় থাকে মোট ৯০ মিনিট।
MCQ অংশ: ৬০ নম্বর (সময়: ৪৫ মিনিট)
লিখিত (Written) অংশ: ৪০ নম্বর (সময়: ৪৫ মিনিট)
GPA স্কোরের ওপর নম্বর (২০ নম্বর): এসএসসি (SSC) এবং এইচএসসি (HSC) পরীক্ষার জিপিএ-র ওপর ভিত্তি করে এই নম্বর দেওয়া হয়।
হিসাবের নিয়ম: SSC GPA X 2 + HSC GPA X 2 = 20 নম্বর।
সতর্কতা: MCQ পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যায় (নেগেটিভ মার্কিং)। এছাড়া MCQ এবং লিখিত—উভয় অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হয়।
প্রধান ৩টি ইউনিটের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
বিজ্ঞান ও কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ইউনিট।
আবেদনের যোগ্যতা: এসএসসি এবং এইচএসসি মিলিয়ে মোট জিপিএ ন্যূনতম ৮.০০ হতে হবে (উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫০ থাকতে হবে)।
মানবণ্টন:
MCQ (৬০ নম্বর): পদার্থবিজ্ঞান (১৫), রসায়ন (১৫) এবং বাকি ২টি বিষয় (জীববিজ্ঞান/উচ্চতর গণিত/বাংলা/ইংরেজি থেকে যেকোনো ২টি)—প্রতিটিতে ১৫ নম্বর করে।
লিখিত (৪০ নম্বর): একইভাবে ৪টি বিষয়ে ১০ নম্বর করে মোট ৪০ নম্বর।
বিশেষ নিয়ম: পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন আবশ্যিকভাবে উত্তর করতে হয়। চতুর্থ বিষয়ের পরিবর্তে বাংলা বা ইংরেজি উত্তর করা যায়।
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মূল ইউনিট হলেও এখানে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিভাগ পরিবর্তনের জন্য পরীক্ষা দিতে পারে।
আবেদনের যোগ্যতা:
মানবিক বিভাগ: মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.৫০ (আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০০)।
বিজ্ঞান বিভাগ: মোট জিপিএ ন্যূনতম ৮.০০ (আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫০)।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.৫০ (আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০০)।
মানবণ্টন:
MCQ (৬০ নম্বর): বাংলা (১৫), ইংরেজি (১৫) এবং সাধারণ জ্ঞান (৩০)।
লিখিত (৪০ নম্বর): বাংলা (২০) এবং ইংরেজি (২০)।
ব্যবসায় শিক্ষা বা কমার্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের মূল ইউনিট (এখানেও বিজ্ঞান ও মানবিকের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্তে পরীক্ষা দিতে পারে)।
আবেদনের যোগ্যতা: ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের জন্য মোট জিপিএ ন্যূনতম ৭.৫০ এবং বিজ্ঞানের জন্য ৮.০০ হতে হবে।
মানবণ্টন (কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য):
MCQ (৬০ নম্বর): বাংলা (১২), ইংরেজি (১২), হিসাববিজ্ঞান (১২), ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (১২) এবং ফিন্যান্স/মার্কেটিং (১২)।
লিখিত (৪০ নম্বর): অনুবাদ, সংক্ষিপ্ত প্রকাশ ও ব্যবসায়িক বিষয়ের ওপর প্রশ্ন থাকে।
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ঢাকার বাইরে ৮টি বিভাগীয় শহরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি) একই সাথে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও চারুকলা অনুষদের জন্য 'চ-ইউনিট' (৪০ নম্বরের MCQ ও ৬০ নম্বরের অংকন পরীক্ষা) এবং আইবিএ (IBA)-এর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়।
📌 গুরুত্বপূর্ণ নোট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর ইউনিট কাঠামো ও নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সরাসরি du.ac.bd অনুসরণ করো। |
যত আগে শুরু করবে, তত ভালো। আদর্শভাবে একাদশ শ্রেণি থেকেই ভর্তি পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে পড়া উচিত। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষার্থী HSC-র পরেই পুরোদমে শুরু করে — এতেও সফলতা সম্ভব, যদি পরিকল্পনা ঠিক থাকে।
HSC পরীক্ষার ৬ মাস আগে থেকে: বেসিক ধারণা পাকাপোক্ত করো, বিশেষত গণিত ও ইংরেজিতে।
HSC শেষ হওয়ার পর: পুরোদমে ভর্তির বিশেষ প্রস্তুতি শুরু করো।
পরীক্ষার ২ মাস আগে: রিভিশন, মডেল টেস্ট ও দুর্বল অধ্যায় চিহ্নিত করে কাজ করো।
পরীক্ষার ১ সপ্তাহ আগে: নতুন কিছু না পড়ে শুধু রিভিশন ও মানসিক প্রস্তুতি নাও।

DU ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থে তড়িৎ, চৌম্বকত্ব, আলো, তরঙ্গ ও আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান থেকে বেশি প্রশ্ন আসে।
মূল সূত্রগুলো নিজে হাতে লিখে বারবার অনুশীলন করো।
গাণিতিক সমস্যায় একক (unit) ও মাত্রা (dimension) বিশ্লেষণে ভুল না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকো।
বিগত ১০ বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করলে প্যাটার্ন বুঝতে পারবে।
জৈব, অজৈব ও বিশ্লেষণমূলক রসায়ন — তিনটিতেই সমান মনোযোগ দিতে হবে।
বিক্রিয়ার সমীকরণ মুখস্থ না করে বুঝে আয়ত্ত করো।
পর্যায় সারণি ও গ্রুপ সম্পর্কিত প্রশ্নে নিয়মিত ভুল হয়; এই অংশ আলাদাভাবে অনুশীলন করো।
মোলারিটি, নরমালিটি ও প্রোটন-ইলেকট্রন ধারণা পরিষ্কার থাকা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের প্রশ্ন মূলত HSC সিলেবাসের মধ্যেই থাকে, তবে চিন্তাশক্তির প্রয়োগ বেশি লাগে।
বিন্যাস-সমাবেশ, ক্যালকুলাস, ত্রিকোণমিতি ও সম্ভাবনা থেকে বেশি প্রশ্ন আসে।
ক্যালকুলেটর ছাড়া সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তোলো।
প্রতিটি অধ্যায় শেষে অন্তত ২০টি MCQ সমাধান করো।
DU পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে গভীর ধারণা ছাড়া শুধু মুখস্থে কাজ হয় না।
উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান দুটোতেই সমান মনোযোগ দাও।
কোষ, জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন অধ্যায়গুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়ো।
চিত্র দেখে বিভিন্ন অংশ চেনার নিয়মিত অভ্যাস রাখো।

মানবিক ইউনিটে বাংলা ব্যাকরণ থেকেই বেশিরভাগ প্রশ্ন আসে।
সন্ধি, সমাস, কারক-বিভক্তি, প্রকৃতি-প্রত্যয় ভালো করে আয়ত্ত করো।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বিখ্যাত লেখকদের রচনা সম্পর্কে ধারণা রাখো।
প্রতিদিন ১০টি কঠিন বানান অনুশীলন করো — বানান শুদ্ধিতে অনেকেই নম্বর হারায়।
Grammar ও Vocabulary দুটোতেই সমান দক্ষতা থাকতে হবে।
Parts of Speech, Tense, Voice, Narration ভালো করে বুঝতে হবে।
প্রতিদিন ১০টি নতুন Vocabulary শেখার অভ্যাস গড়ে তোলো।
Sentence Correction ও Error Finding-এ বেশি মনোযোগ দাও।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন আসে।
মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের ভূগোল ও ইতিহাস ভালোভাবে পড়ো।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়মিত অনুসরণ করো।

বাণিজ্য ইউনিটে অ্যাকাউন্টিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আর্থিক বিবরণী, জাবেদা, খতিয়ান বুঝে বুঝে পড়ো।
সংখ্যাতাত্ত্বিক প্রশ্নে দ্রুত হিসাব করার অনুশীলন করো।
ব্যবস্থাপনার কার্যাবলি (পরিকল্পনা, সংগঠন, নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ) মুখস্থ করো।
বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য জানো।
সঠিক রুটিন না থাকলে অনেক পরিশ্রম করেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতিতে রুটিনই তোমার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
সময় | কার্যক্রম |
সকাল ৬টা – ৭টা | আগের দিনের নোট রিভিশন |
সকাল ৭টা – ৯টা | প্রথম মূল বিষয় (পদার্থ / গণিত) |
সকাল ৯টা – ৯:৩০ | বিরতি ও নাস্তা |
সকাল ৯:৩০ – ১২টা | দ্বিতীয় বিষয় (রসায়ন / বাংলা) |
দুপুর ১২টা – ১:৩০ | খাবার ও বিশ্রাম |
দুপুর ১:৩০ – ৩:৩০ | তৃতীয় বিষয় ও MCQ প্র্যাকটিস |
বিকাল ৩:৩০ – ৪টা | বিরতি |
বিকাল ৪টা – ৬টা | সাধারণ জ্ঞান ও ইংরেজি |
সন্ধ্যা ৬টা – ৮টা | মডেল টেস্ট ও ভুল বিশ্লেষণ |
রাত ৮টা – ৯টা | পরদিনের পরিকল্পনা ও রিভিশন নোট |
💡 প্রো টিপ: প্রতিটি সেশনে ২৫ মিনিট মনোযোগ দিয়ে পড়ো, তারপর ৫ মিনিট বিরতি নাও (Pomodoro টেকনিক)। Infinity Exams - এর chapter-wise practice মডিউল ব্যবহার করলে প্রতিটি সেশনে কতটুকু পড়লে তা সহজেই ট্র্যাক করতে পারবে। |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ MCQ ভিত্তিক এবং নেগেটিভ মার্কিং থাকে। তাই অনুমানভিত্তিক উত্তর দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
সাধারণত প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যায়, অর্থাৎ ৪টি ভুলে ১ নম্বর বিয়োগ। যদি ৪টি অপশনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে ২টি বাদ দিতে পারো, তখনই অনুমান করা কিছুটা যৌক্তিক। পুরোপুরি অজানা প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিষয়ভিত্তিক MCQ আগে সমাধান করো, পরে মিশ্র প্র্যাকটিস করো।
ভুল করা প্রশ্নগুলো আলাদা খাতায় লিখে রাখো ও নিয়মিত রিভিশন করো।
সময় নির্ধারণ করে মডেল টেস্ট দাও — প্রতিটি প্রশ্নে গড়ে ৪৫-৫০ সেকেন্ড বরাদ্দ রাখো।
Infinity Exams এর subject-wise mock test ও leaderboard ব্যবহার করলে নিজের অবস্থান বুঝতে পারবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অভ্যাস হবে।
কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করলে বুঝতে পারবে কোন অধ্যায় থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, প্রশ্নের কঠিনতার মাত্রা কেমন এবং কোথায় বেশি সময় দিতে হবে।
দুর্বল বিষয়ে বেশি সময় দাও, শক্তিশালী বিষয়গুলো শুধু রিভিশনে রাখো। সমান সময় বণ্টন কার্যকর না।
তত্ত্ব জানলেই MCQ-তে ভালো করা যায় না। প্রচুর প্র্যাকটিস টেস্ট দিতে হবে। Infinity Exams - এর XP system-এ প্রতিটি পরীক্ষায় XP অর্জন হয়, যা তোমার অগ্রগতি ট্র্যাক করতে সাহায্য করে।
রাত জেগে পড়া অনেকের জন্যই ক্ষতিকর। মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতার জন্য প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য।
পরীক্ষার আগের সপ্তাহে নতুন বিষয় শুরু করলে আগে যা পড়েছ তা ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ পড়াশোনার মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়। ধ্যান, হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাস রাখো।
বিষয় | প্রস্তাবিত বই |
পদার্থবিজ্ঞান | NCTB পাঠ্যবই + বিগত বছরের প্রশ্ন সংকলন |
রসায়ন | NCTB পাঠ্যবই + হাজারী-নাগ |
গণিত | NCTB পাঠ্যবই + আব্দুল আলীম |
জীববিজ্ঞান | NCTB পাঠ্যবই + গাজী-আজম |
বাংলা ব্যাকরণ | বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি) |
ইংরেজি | Raymond Murphy's English Grammar |
সাধারণ জ্ঞান | MP3 সাধারণ জ্ঞান / আজকের বিশ্ব |
সিলেবাসের ১০০% পড়া সম্পন্ন করা
অন্তত 50টি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দেওয়া
বিগত ৫ বছরের প্রশ্ন সমাধান করা
দুর্বল অধ্যায়গুলোতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া
নতুন কিছু না পড়ে শুধু রিভিশন করা
প্রবেশপত্র ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা
পরীক্ষা কেন্দ্র আগেই চিনে রাখা
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌঁছানো
হালকা নাস্তা করা, পেট ভরা না রাখা
প্রশ্নপত্র পেয়ে প্রথমে পুরোটা একবার দেখে নেওয়া
নিশ্চিত উত্তর আগে দেওয়া, অনিশ্চিতগুলো পরে ভাবা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি কোনো একদিনের কাজ নয় — এটা একটা দীর্ঘ যাত্রা। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন ও মানসিক দৃঢ়তা — এই তিনটি মিলিয়েই সফলতা আসে।
এই গাইডের প্রতিটি পরামর্শ বাস্তবে প্রয়োগ করো। সিলেবাস বুঝে পড়ো, MCQ প্র্যাকটিস করো, মডেল টেস্ট দাও এবং ভুল থেকে শিক্ষা নাও।
মনে রেখো — কঠিন পরিশ্রম, সঠিক কৌশল ও ধৈর্যের সমন্বয়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা খুলে যায়। তোমার জন্য শুভকামনা রইলো!
নির্দিষ্ট কোনো পাস মার্ক নেই। মেধাক্রম অনুযায়ী আসন পূরণ করা হয়। তাই যত বেশি নম্বর পাবে, সুযোগ তত বেশি।
ভর্তির জন্য ন্যূনতম GPA নির্ধারিত থাকে। সেটি পূরণ হলে মূল নির্বাচন হয় লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে। তাই ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করলে সুযোগ থাকে।
অবশ্যই সম্ভব। অনেক শিক্ষার্থী কোচিং ছাড়াই ভর্তি হয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত পড়া ও পর্যাপ্ত প্র্যাকটিস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট du.ac.bd-তে প্রতি বছর ভর্তি বিজ্ঞপ্তির সাথে সিলেবাস প্রকাশিত হয়।
নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়া এবং ভুলের হার ট্র্যাক করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। Infinity Exams-এর leaderboard ও XP সিস্টেম ব্যবহার করলে নিজের অবস্থান সহজেই বোঝা যায়।